অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার আড়াই হাজারের বেশি মণ্ডপে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শুরু হয়েছে। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে ভোর থেকেই বন্দরনগরীসহ পুরো জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। উৎসব ঘিরে পুরো চট্টগ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।
শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিভিন্ন মণ্ডপে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠীবিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর সন্ধ্যায় বিল্ববৃক্ষতলে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বোধন সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যার পর থেকে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা দর্শনে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। কেউ দেবী দুর্গার চরণে ভক্তি নিবেদন করছেন, কেউ অঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার অনেকে পরিজন নিয়ে বর্ণিল মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করছেন।
মহাষষ্ঠী উপলক্ষে নগরীর জেএমসেন হল, হাজারী গলি, গোলপাহাড় মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের পূজামণ্ডপ ও কুসুমকুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলো দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা ও আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটেছে ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন হবে নৌকায়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দেবীর এই গমনাগমনের বাহন নিয়ে ভক্তদের মাঝে নানা তাৎপর্য প্রচলিত রয়েছে।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম মহানগরে ২৭৮টি এবং জেলার ১৫টি উপজেলায় ২ হাজার ২৭৪টিসহ মোট ২ হাজার ৫৫২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও উস্কানি প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সার্বক্ষণিক নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করছেন। মাঠে প্রায় আট হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকার পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনী মিলিয়ে মোট প্রায় ২০ হাজার সদস্য সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, প্রতিটি মণ্ডপ এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে তিন স্তরের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বড় মণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ পাঁচজন আনসার এবং দুই থেকে তিনজন করে পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন। এর বাইরে গোয়েন্দা নজরদারি, মোবাইল টিম এবং র্যাবের বিশেষ টহল কার্যকর রয়েছে।
মহানগর ও জেলার প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয় থেকে আট সদস্যের বিশেষ দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ সদস্যদের সব ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে পৃথক নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে সিএমপি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিশেষ প্লাটুন।
ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর সবকটি প্রবেশমুখে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানোর জন্য মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন