মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে টানা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তাকে বের করে আনা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

তবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়তে একটি সুস্পষ্ট শর্ত জুড়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা করেন যে উপাচার্যকে তারা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছেন একটি মাত্র শর্তে, আর তা হলো তিনি আর কখনোই চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন না।

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সোমবার সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর থেকেই নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।

এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা তার অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করেন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা এবং সেই থেকে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তীব্র অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে ওই দিনই উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে তারা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়।

এদিকে উপাচার্যের জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ডাক দেয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।

এই তীব্র সংকটের মুখে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে জানান, একজন সম্মানিত শিক্ষক তাদের কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা বলেছেন। সেই কারণে তারা তাকে নিয়ে যেতে এসেছেন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে নিরাপদে বের করে এনে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।