অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
পঞ্চগড়ের বোদায় অবৈধভাবে পাচারের সময় একশত ২০ বস্তা ড্যাপ সারসহ একটি ট্রাক্টর জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বোদা উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট সার ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ডিলারশিপ বা লাইসেন্স বাতিলের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বোদা উপজেলার সাতখামার এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের অনুমোদিত ডিলার মেসার্স নুরনবী এন্টারপ্রাইজের গুদাম থেকে ১২০ বস্তা ড্যাপ সার একটি ট্রাক্টরে তোলা হয়। এই সার পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলার এক খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল।
বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে বোদা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান আলম সারবোঝাই ট্রাক্টরটি হাতেনাতে আটকে দেন।
পরে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বোদা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারসহ পরিবহনটি জব্দ করে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন ও সার্বিক তদন্ত শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সরকারি সার নীতিমালা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলারকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তার অনুকূলে বরাদ্দ থাকা লাইসেন্স বাতিলের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ১২০ বস্তা সরকারি ড্যাপ সার পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন নবী, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জু ইসলাম, উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ এবং পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করে সরকারি সার কালোবাজারে বা অবৈধ উপায়ে পাচারের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সার নিয়ে যেকোনো কারচুপি রোধে এই ধরণের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সরকারি সার ডিলার নীতিমালায় একই পরিবারের সদস্যদের একাধিক ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে নুরনবী এন্টারপ্রাইজ ও তানিম এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের অভিযোগ, নীতিমালা উপেক্ষা করে একই পরিবারকে দুটি ডিলারশিপ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন