অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
পাহাড়ে দুই আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র। দুর্গাপূজার ছুটিকে ঘিরে সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে শতভাগ আগাম বুকিং থাকলেও প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পর চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অনেকেই অগ্রিম বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্ধ রয়েছে পর্যটকবাহী পরিবহন চলাচলও।
সম্প্রতি পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যকার সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন।
দূরদূরান্ত থেকে ঘুরতে এসে হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বিপাকে পড়েছেন শত শত পর্যটক। বগুড়া থেকে ৩৫ থেকে ৩৭ জনের একটি দল নিয়ে আসা পর্যটকরা জানান, অনেক আশা ও পরিকল্পনা নিয়ে তারা সাজেকে এসেছিলেন। কিন্তু এসে পরিস্থিতি খারাপ দেখে তাদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
এদিকে ছুটির এই মৌসুমে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। সাজেক ও খাগড়াছড়ির পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ১৪ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার পর্যটক আসার সম্ভাবনা ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা টানা অব্যাহত থাকলে শুধু দুর্গাপূজার ছুটিতেই প্রায় ১৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় পর্যটকবাহী জিপ চালকরাও গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে দুর্গাপূজার মৌসুম এলেই ফুল বুকিং থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের কারণে সাজেকে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় সংকট উত্তরণে তারা সরকারের সুদৃষ্টি চেয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাজেক এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এক সেনা কর্মকর্তা জানান, জনগণের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেই লক্ষ্যে সাজেক সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এর আগে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন