মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,
পাগলা মসজিদের অনুদান

পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সপাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ১০৮৮ ভরি রুপা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সপাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ১০৮৮ ভরি রুপা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া অলঙ্কারের আনুষ্ঠানিক পরিমাপ সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর পরিচালিত এই বিশেষ কার্যক্রমে দানবাক্সগুলো থেকে মোট ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা পাওয়া গেছে। সোমবার ১২ অক্টোবর বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের ওজন নির্ধারণের এই আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

স্বর্ণ ও রুপার হিসাব চূড়ান্ত হলেও দানবাক্সে মেলা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা গণনা ও ওজন পরিমাপের কাজ রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারিছী জানান, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার হিসাব সম্পন্ন করতে রাত আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সোমবার সকাল পৌনে দশটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, ক্যারেট যাচাই ও মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং ছয়টি সিলগালা খাম খুলে এই সামগ্রীগুলো বের করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমান বাজারমূল্য যাচাই করে স্বর্ণ ও রুপা প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত বিনিময় হার অনুযায়ী দ্রুত নগদায়ন করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের একটি তদারকি উপকমিটি পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, কমিটিতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন অভিজ্ঞ সদস্য অলঙ্কারের মান ও ওজন নির্ভুলভাবে যাচাইয়ে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।

কার্যক্রম চলাকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও উপসচিব জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দান সিন্দুকের ৪২০ ভরি স্বর্ণ ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। সেই সময় প্রাপ্ত বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে পাওয়া গিয়েছিল আরও ৭০ লাখ টাকা।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেই গণনার পরেই মূলত জমা থাকা অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণের এই আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এছাড়া মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইনে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান জমা হয়েছে।