রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা রেকর্ড ছাড়াল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা রেকর্ড ছাড়াল

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খুলে এবার নতুন রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। শনিবার দিনভর গণনা শেষে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। এর আগে সকাল ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও অতিরিক্ত পুলিশ... সাকিবের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে সেখান থেকে সংগৃহীত নগদ টাকা ৪৩টি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনা শুরু করা হয়।

টাকা গণনার কাজে প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেন।পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ জানান, দীর্ঘ সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ব্যাপী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এই অর্থ গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। টাকা গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে পাগলা মসজিদ নূরানী কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১০০ জন শিক্ষার্থী, শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়ার ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের ৬০ জন কর্মকর্তা-কমচারীসহ পাঁচ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সগুলোতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা ও রূপার অলংকার পাওয়া গেছে, যা রাষ্ট্রীয় ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সাধারণত প্রতি তিন মাস পর পর এই মসজিদের দানসিন্দুকগুলো খোলা হলেও এবার হাওরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির কারণে দীর্ঘ ছয় মাস পর এগুলো খোলা হয়। এর আগে গত বছরের ২৭ জুন দানবাক্স থেকে সর্বোচ্চ ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। দিন দিন দানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মসজিদের তহবিল এখন প্রায়১৩০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এই দানের অর্থ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয় এবং তা থেকে স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া হয়।

মসজিদ কর্তৃত্ব জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ দানের তহবিল থেকে প্রায়১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বহুতল পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার নকশা অনুমোদনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে, নরসুন্দা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের আস্তানা ছিল, যা পরবর্তীতে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। মনের আশা পূরণ হওয়ার বিশ্বাস থেকে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানে নগদ অর্থ, গবাদিপশু ও নানা সামগ্রী নিয়মিত দান করে থাকেন।