মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম এক স্থাপত্য নিদর্শন। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই প্রাচীন মসজিদটি। আকারে অত্যন্ত ছোট হলেও স্থাপনাটির নান্দনিক সৌন্দর্য দেখতে আজও দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান।
শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, এটি ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। বর্গাকার এই মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১২ ফুট এবং মিনারসহ এর উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। প্রাচীন এই মসজিদে অতীতে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত জামাত না হলেও পর্যটকরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। তবে প্রতি বছর দুই ঈদের নামাজ এখানে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি শুধু উপাসনালয় হিসেবেই নয় বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে টিকে থাকবে।
যদিও অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি তার আদি স্থাপত্যশৈলীর অনেকটা হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে এই মসজিদ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান যে তার পূর্বপুরুষরাই এটি নির্মাণ করেছিলেন। সেই আমলে জনবসতি কম থাকায় মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লির ধারণক্ষমতা নিয়ে দুই কাতারের এই ক্ষুদ্র মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের বিবর্তনে মসজিদের চারপাশের গভীর জঙ্গল বিলীন হয়ে জনবসতি গড়ে উঠলেও মসজিদটি তার জরাজীর্ণ অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার ফলে মসজিদটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে স্থানীয়রা উদ্যোগী হয়ে এটি সংস্কার করেন। তবে স্থানীয়দের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কারিগরি তত্ত্বাবধানে সংস্কার করা হলে এর বাইরের আদি নকশা ও কারুকাজ অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হতো। সংস্কারের ফলে পুরোনো নকশার আদলে তৈরি চারটি মিনারের মধ্যে বর্তমানে দুটি মিনার ও একটি গম্বুজ টিকে আছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন জানান যে কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমেনি।
পর্যটকরা এখানে এসে যেমন স্থাপত্যশৈলী উপভোগ করেন, তেমনি ধর্মীয় আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। ২০১১ সালে সংস্কার কাজে যুক্ত থাকা মিস্ত্রি নুর আলম জানান যে সে সময় মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল এবং এর ওপর বটগাছ জন্মেছিল। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক পদ্ধতি ব্যবহার করে সংস্কার করলে এই প্রাচীন জৌলুস পুরোপুরি রক্ষা করা যেত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন