রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
রংপুরে চার খুন

রংপুরে চার খুন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দুই আসামি ঢাকায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

রংপুরে চার খুন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দুই আসামি ঢাকায়

রংপুর নগরীতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। রোববার রাতে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এই পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি হলেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রমাণ সুদৃঢ় করতে তাদের শারীরিক নমুনা সংগ্রহ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যে সোমবার তাদের রাজধানী ঢাকার মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে হাজির করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা বিভিন্ন জৈবিক আলামত এবং নিহত চার ব্যক্তির শারীরিক নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ সরাসরি মিলিয়ে দেখার বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধের সময় হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট স্থানে আসামিদের প্রত্যক্ষ শারীরিক উপস্থিতি ছিল কিনা তা অকাট্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সাথে উদ্ধার করা কোনো আলামতের সঙ্গে আসামিদের কোনো জৈবিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কিনা তাও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসবে।

উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষায়িত ল্যাবে আসামিদের ডিএনএ স্যাম্পল জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই তাদের সরাসরি ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে রংপুর থেকে তাদের ঠিক কখন বা কোন পথে রওনা করানো হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি তিনি। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ল্যাবে নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রায় আধা ঘণ্টার কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সোমবারই তাদের সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

এর আগে গত বাইশ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ পারিবারিক বাসভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা জালে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।