রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

ইরান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যদি দ্রুত নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক আচরণে পরিবর্তন না আনে তবে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের কিছু ঘটতে পারে বলে তিনি সরাসরি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরান সংকট নিয়ে নিজের রণকৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

ট্রাম্প চাঁচাছোলা ভাষায় মন্তব্য করেন যে তাঁর সামনে এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে তিনি কি পুরো দেশটিকে সামরিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবেন, আর যদি দেন তবে সেই আঘাতটি ঠিক কখন হানবেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে এই পরিস্থিতি এড়াতে হলে ইরানের অবিলম্বে সঠিক পথে ফিরে আসা উচিত। ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সামনে থাকা বহুমুখী বিকল্পগুলোর রূপরেখাও প্রকাশ করেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন একটি চরম পথ হলো দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা, আরেকটি পথ হলো কঠোর নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতিকে ধাপে ধাপে পচে যেতে দেওয়া। তবে এর সমান্তরালে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তিতে উপনীত হওয়ার সুযোগ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব বিকল্পের কথা জানালেও সামনে খুব দ্রুতই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত বজায় রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে সোমবার থেকে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প জানান এমন সাক্ষাৎকারের বিষয়ে তিনি সম্ভবত ইতিবাচক ও উন্মুক্ত রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিস্তৃত সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ট্রাম্প।

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরও ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী হুথিরা আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে না জড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।