রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান

ছবি: সংগৃহীত

পূর্বশর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবে না ইরান। আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই। মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং ইরান তাদের সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ওয়াশিংটনের কাছে আগেই পৌঁছে দিয়েছে তেহরান।

রেজাই জানান, কাতার ও পাকিস্তান সরকার বর্তমানে তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্ত স্পষ্ট করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেই দাবিগুলো সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। ইরান এখন কেবল অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সেই শর্তগুলো মেনে নিয়ে তা কার্যকর করে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে রাখা সুনির্দিষ্ট শর্তগুলোর রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জব্দ থাকা সব ইরানি সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা। একই সাথে সব সামরিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, বিপ্লববিরোধীদের সঙ্গে সহযোগিতা পরিত্যাগ, ইরানি ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বন্ধ এবং আরোপিত অন্যায্য নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে এই দাবিগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে হবে, এরপরই কেবল আনুষ্ঠানিক সংলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। পারমাণবিক নীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ প্রসঙ্গে রেজাই বলেন, তার দেশ প্রয়াত ইমাম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঐতিহাসিক ফতোয়ার প্রতি এখনো অবিচল রয়েছে এবং নীতিগত এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আচরণ বিবেচনায় নিয়ে ইরান প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি। এদিকে ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেজাই উল্লেখ করেন, ইরান অবিলম্বে এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান দেখতে চায়। রিয়াদ ও সানা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা চাইলে তেহরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি প্রসঙ্গে রেজাই জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তেহরান ব্যাপক প্রতিরোধ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। একই সাথে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল বলে দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি একটি নতুন প্রযুক্তির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর দাবি করে রেজাই বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সন্নিকটে বিস্ফোরিত হয়ে ৮০টি পৃথক বিস্ফোরক ওয়ারহেডে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।