রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নতুন এআই ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

নতুন এআই ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত নতুন একজন শীর্ষ নীতি উপদেষ্টা নিয়োগের পাশাপাশি একটি বিশেষ ‘এআই ফোর্স’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা জানান। তবে প্রস্তাবিত এই বিশেষ বাহিনী কীভাবে গঠিত হবে বা তাদের পরিচালনা পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের মাঝেই এই ঘোষণা এলো।

চলতি মাসের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য মানবীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিজ্ঞানীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন যে চলতি দশকের শেষ নাগাদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এ প্রযুক্তি মানবজাতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই জাতীয় আশঙ্কামূলক বক্তব্যকে শুরু থেকেই খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে মাত্রাতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও তিনি ধারাবাহিক যুক্তি দেখিয়ে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, কোনো অবস্থাতেই এই অভূতপূর্ব শিল্পের বিকাশকে ব্যাহত বা অবরুদ্ধ করা হবে না। বরং এই প্রযুক্তির স্বাভাবিক রূপান্তরের সাথে সাথে মার্কিন প্রশাসন একে সহায়তা, সুরক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ প্রদান করবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কোনো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানো হলে তা প্রতিহত করতে আলাদা বিধিমালার পরিবর্তে বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইন প্রয়োগ করাই যথেষ্ট হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে এটি হবে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় প্রধান এআই উপদেষ্টা বা ‘এআই জার’ নিয়োগ। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস এই পদে নিয়োজিত ছিলেন, যিনি চলতি বছরের বসন্তে দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

স্যাকসও প্রযুক্তিতে কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মনোভাবকে সমর্থন জানিয়েছেন। সম্প্রতি এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদেরই তাদের প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়ভার নিতে হবে এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তাদেরই জবাবদিহির আওতায় আনা যেতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্ধারিত শীর্ষ সম্মেলনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ঘোষণা সামনে এলো।

আগামী বৃহস্পতিবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে বহুল আলোচিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত রয়েছে, যেখানে উভয় দেশের সরকারই একে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিমত্তার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

ট্রাম্প এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি নির্বাহীদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রযুক্তির উদ্ভাবনী অগ্রগতি ধীরগতির হয়ে পড়বে। এর ফলে বৈশ্বিক মঞ্চে বিশেষ করে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা হারিয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে প্রযুক্তির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা স্বতন্ত্র গবেষকেরা বাণিজ্য খাতের এমন যুক্তিকে প্রায়ই প্রত্যাখ্যান করে থাকেন।