সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পথে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ বহনকারী একটি বিশেষ সামরিক চালানের গতিপথ নাটকীয়ভাবে বদলে হংকংয়ে চলে গেছে। এই ঘটনার পর অত্যন্ত গোপনীয় ও কৌশলগত এসব যন্ত্রাংশ চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন ও মার্কিন কংগ্রেসে যৌথভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
চালানের ভেতর যুদ্ধবিমানটির ককপিটের ক্যানোপিও ছিল। বিমানের রাডার ফাঁকি দেওয়ার স্টিলথ সক্ষমতায় এই ক্যানোপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এতে রাডার তরঙ্গ শোষণকারী বিশেষ ধরনের রাসায়নিক আবরণ থাকে। তবে চালানটি ঠিক কোন গন্তব্যে নামানো হয়েছে বা বর্তমানে সেই স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশগুলোর সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান কোথায়, তা এখনো স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
এফ-৩৫ যৌথ কর্মসূচি দপ্তর জানিয়েছে, তারা সামরিক যন্ত্রাংশ পরিবহনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে। সংকট নিরসনে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে হারানো যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সাথে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি ঠেকাতে বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এফ-৩৫ প্রকল্পের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল মার্কিন সরকারের হিসাবরক্ষণ দপ্তর।
সংস্থাটির ২০২৩ সালের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে কেবল একজন নির্দিষ্ট সামরিক ঠিকাদারের হেফাজত থেকেই ১০ লাখের বেশি এফ-৩৫ খুচরা যন্ত্রাংশ হারিয়ে গেছে। খোয়া যাওয়া এসব যন্ত্রাংশের আনুমানিক আর্থিক মূল্য ছিল ৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ হারিয়ে গেলেও কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ মাত্র ২ শতাংশেরও কম বিষয়ে পর্যালোচনা করার সুযোগ পেয়েছিল।
এছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আরও ৯ লাখের বেশি যন্ত্রাংশ নিখোঁজ হওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যই যৌথ কর্মসূচি কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হয়নি। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ৫০টিরও বেশি পৃথক সামরিক স্থাপনায় যন্ত্রাংশের মজুত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সেগুলোর সার্বক্ষণিক তদারকি ও নজরদারির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন