সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১১:২০ এএম
ময়মনসিংহের ভালুকায় থাইল্যান্ড থেকে আনা উন্নত জাতের বিদেশি রামবুটান চাষ করে বাণিজ্যিক কৃষি অর্থনীতিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দুই উদ্যোক্তা। ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের গোয়ারি গ্রামের নন্দীবাড়িতে তাইফ এগ্রো নামের সমন্বিত খামারে এই ফলের সফল ফলন নিশ্চিত করেছেন শেখ মামুন ও তার ভাতিজা আশরাফ শুভ। মোট ২০ বিঘা আয়তনের কৃষি প্রকল্পের মধ্যে ২১৩টি রামবুটান গাছ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ বাগান। এছাড়া বাকি জমিতে কাটিমন জাতের আম ও লংগানের আবাদ করা হয়েছে। রোপণের মাত্র দেড় থেকে দুই বছরের মাথায় ফলন শুরু হওয়া এই বাগানের প্রতিটি গাছ থেকে বর্তমানে গড়ে ৫০ থেকে ১০০ কেজির বেশি সতেজ রামবুটান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আমদানিনির্ভর বিলাসবহুল এই ফলের বাণিজ্যিক আবাদ দেশে পুষ্টি ও রাজস্ব আয়ের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। উদ্যোক্তারা জানান, প্রবাসে অবস্থানের সময় বিদেশের মাটিতে রামবুটানের ব্যাপক ফলন দেখে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এটি উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে থাইল্যান্ড থেকে এলসির মাধ্যমে সরাসরি দুটি উন্নত জাতের চারা আমদানি করা হয়। সাধারণ মানুষকে নার্সারির প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখতে জাতের নাম প্রকাশ না করলেও চারা সংগ্রহের বিশুদ্ধতার ওপরই ফলনের পুরো সাফল্য নির্ভর করে বলে দাবি তাদের। বর্তমানে চার বছর বয়সী এই বাগানের গাছে কাঁচা ও পাকা ফলের উপস্থিতি প্রমাণ করে এটি প্রায় সারা বছরই ফলন দিতে সক্ষম।
গাছ রোপণের ক্ষেত্রে তিন ফুট চওড়া ও দেড় ফুট গভীর গর্ত খনন করে তোলা মাটির অর্ধেক অংশ সরিয়ে বাকি মাটির সাথে কোকোপিট, কেঁচো সার বা ভার্মিকম্পোস্ট, গোবর এবং অনুমোদিত দানাদার কীটনাশক মিশিয়ে চারা লাগানো হয়। রামবুটান গাছ আর্দ্রতা ও পানি অত্যন্ত পছন্দ করায় গাছের গোড়া পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করতে হয়। রোপণের সময় দূরত্ব অন্তত ২০ ফুট রাখা প্রয়োজন, যা প্রতি বিঘায় সর্বোচ্চ ৩০টি গাছের জন্য আদর্শ। গাছের চারদিকে গোলাকার নালা বা ড্রেন কেটে সেখানে ঝরে পড়া পাতা, পচানো কচুরিপানা ও সবজির বর্জ্য পচিয়ে নিয়মিত জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। বাগানে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার সম্পূর্ণ পরিহার করা হয়েছে, কারণ অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে গাছ মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলের গুটি ঝরে পড়া ও পাতার রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে প্রতি ১৫ দিন পর পর ছত্রাকনাশক ও অনুমোদিত বালাইনাশক স্প্রে করা হয়। প্রচণ্ড খরার সময় কিছুটা গুটি ঝরলেও ফলনের চাপ সামলাতে প্রতিটি গাছের ডালে বাঁশের ঠেকনা দিতে হয়। এক একটি ফলের ওজন সর্বোচ্চ ৭০ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে থাকে এবং প্রতিটি থোকায় এক কেজিরও বেশি ওজনের ফল ধরে।
আমদানি করা বিদেশি রামবুটান দীর্ঘ পরিবহনের কারণে রং হারিয়ে বাসি হলেও দেশীয় বাগানের চকচকে লাল তাজা ফল স্থানীয় বাজারে কেজি প্রতি এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছর বয়সী একটি গাছ থেকে বছরে ৫০ কেজি ফল পাওয়া গেলে বর্তমান পাইকারি দরে অন্তত ৫০ হাজার টাকা আয় সম্ভব। ফলে এক বিঘা জমিতে ৩০টি গাছ থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা নতুন চাষিদের প্রতারণা এড়াতে সরেজমিন বাগান পরিদর্শন করে তিন বছর বয়সী কলমের চারা সংগ্রহের পরামর্শ দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন