রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
থাই কদবেল অর্থনীতি

থাই কদবেল আবাদে বছরে আট লাখ টাকা আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

থাই কদবেল আবাদে বছরে আট লাখ টাকা আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

উন্নত জাতের কাঁটাহীন থাই কদবেল চাষ করে বাণিজ্যিক কৃষি অর্থনীতিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ফরিদপুরের এক উদ্যোক্তা। জেলার বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কাচর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আকিদুল ইসলাম চার বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই ব্যতিক্রমী ফলের বাগান। দেশীয় বুনো জাতের কদবেল গাছে অতিরিক্ত কাঁটা ও দেরিতে ফল আসার প্রবণতা থাকলেও এই থাই জাত সম্পূর্ণ কাঁটাহীন এবং দ্রুত বর্ধনশীল। রোপণের চতুর্থ বছরে এসে তার বাগানের চার শতাধিক ফলন্ত গাছ থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় আট লাখ টাকার কদবেল বিক্রির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাগান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক বছরগুলোতে জমিতে সাথী ফসল চাষই ব্যয়ের পুরো ভার বহন করে। উদ্যোক্তার বাগানে গাছগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব রাখা হয়েছে নয় থেকে দশ হাত, যা বিঘাপ্রতি প্রায় ১৫০টি চারা রোপণের উপযোগী। চার বছর বয়সী প্রতিটি ঝোপালো গাছে গড়ে দুই শতাধিক ফল ধরেছে। রোপণের দ্বিতীয় বছর থেকে গাছে সামান্য ফল আসতে শুরু করে এবং তৃতীয় বছরে তা দৃশ্যমান আকারে পৌঁছায়। তবে বাণিজ্যিক হিসাবের জন্য গাছকে চতুর্থ বছর পর্যন্ত পরিপক্ব হতে সময় দিতে হয়। পরিপক্ব একটি ভালো গাছ থেকে মৌসুমে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ফল বিক্রি সম্ভব হয়।

এই বাগান ব্যবস্থাপনার প্রধান সুবিধা হলো এর উৎপাদন ব্যয় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। চারা কেনার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়া কদবেলের জন্য পৃথক কোনো নিবিড় পরিচর্যা বা বিপুল সারের প্রয়োজন হয় না। গাছ বড় হওয়ার মধ্যবর্তী চার বছর জমিতে মসুর ডাল ও তিল চাষ করে নিয়মিত উৎপাদন ব্যয় তুলে নিয়েছেন কৃষক। ভবিষ্যতে গাছের ফাঁকা জায়গায় পটল চাষের পাশাপাশি গাছ পূর্ণাঙ্গ ছায়া তৈরি করলে আদা ও হলুদের মতো ছায়াপ্রেমী মশলাজাতীয় ফসল আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কদবেল বিক্রির পুরো অর্থই কৃষকের কাছে এককালীন নিট পুঁজি হিসেবে সঞ্চিত থাকে। কদবেলের শক্ত খোসার কারণে সাধারণ পোকার আক্রমণ কম হলেও ফল ছিদ্রকারী পোকার সামান্য ঝুঁকি থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণে ও ফলের সঠিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে মাসে একবার হালকা কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করাই যথেষ্ট। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাবে কিছু কচি ফল ঝরে পড়লেও গাছের ডালে ফলের ভার লক্ষণীয়। ফল সংগ্রহ শেষ হয়ে গেলে গাছের নতুন শারীরিক গঠন ও শক্তির জন্য শীতের প্রাক্কালে একবার সুষম সার প্রয়োগ করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদি এই ফলগাছ অন্তত ২০ বছর পর্যন্ত ফলনশীল থাকে, যা উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত টেকসই থাকে।

বাণিজ্যিক বাজারজাতে এই কদবেলের বড় অংশই পাইকাররা গাছ ধরে এককালীন কিনে নেন। ফলের খোসা শক্ত থাকায় এটি পাকা পর্যন্ত গাছে রাখার প্রয়োজন পড়ে না; পরিপক্ব বা পুষ্ট থাকা অবস্থাতেই কাঁচামাল হিসেবে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে বিভিন্ন দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে ভেষজ কাঁচামাল হিসেবে কদবেলের প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে। চার বিঘা আয়তনের চার শতাধিক গাছ থেকে গড় হিসেবে প্রতি গাছে দুই হাজার টাকার ফল পাওয়া গেলেও মোট বিক্রির পরিমাণ আট লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর গাছপ্রতি ফলন ও আর্থিক আয় আরও এক থেকে দুই হাজার টাকা করে বৃদ্ধি পায়।