সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বর্ষাকালে আধুনিক বেড ও মালচিং পদ্ধতিতে সঠিক নিয়মে মরিচ চাষ করে ব্যাপক আর্থিক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকেরা। এক বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষ করলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষি পরামর্শক মোহাম্মদ তারেক জানান, তার বড় ভাই হাসানের দেড় বিঘা জমির একটি প্রকল্পে `সুপার হট` জাতের হাইব্রিড মরিচ চাষ করা হয়েছে। চারাগুলোর বয়স বর্তমানে প্রায় এক মাস ছাব্বিশ দিন। রোপণের দুই মাস পর থেকেই সাধারণত মরিচের ফলন আসতে শুরু করে।
এর আগে দুই বিঘার আরেকটি জমি থেকে তারা ছয় থেকে সাত লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছিলেন। বর্ষায় ফলন ভালো পেতে মালচিং পেপার ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন এই কৃষি পরামর্শক। জমি প্রস্তুতির জন্য মাটি চার থেকে পাঁচবার চাষ দিয়ে ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। বেড তৈরির সময় টিএসপি, এমওপি, জিংক, বোরন, সালফার, ইউরিয়া, হিউমিক এসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম একসঙ্গে প্রয়োগ করতে হয়। তবে শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ও জিংক আলাদাভাবে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
চার ফুট চওড়া মালচিং পেপারের দুই পাশ থেকে ছয় ইঞ্চি বাদ দিয়ে চারা লাগাতে হয়। একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব এক হাত বা আঠারো ইঞ্চি রাখা আদর্শ। মরিচ চাষে প্রধানত তিন ধরনের পোকার আক্রমণ বেশি হয়। মাকড়, থ্রিপস এবং সাদা মাছি দমনে ডাইমেনশন, ক্যাপচার, লোমেকটিন, ফলছিদ্রকারীর জন্য তড়িৎ এবং থ্রিপসের জন্য ট্রেসার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। মাইট স্ক্যাভেঞ্জার এবং পিলারথেন একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করলে এই পোকাগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল হয়।
বর্ষাকালে মরিচ গাছের মারাত্মক তিনটি রোগ হলো পাতা কোঁকড়ানো, গোড়াপচন এবং ব্যাকটেরিয়া উইল্ট। উইল্ট রোগের জন্য ক্রুজার ও ব্যাকটাফ একসঙ্গে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গোড়াপচন রোধে ধুমকেতু এবং যেকোনো কোম্পানির তরল ফিপ্রোনিল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে `টু ইন ওয়ান` বা `সুইটি স্টার` নামক ছত্রাকনাশক দিলে টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পচন থেকে গাছ রক্ষা পায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন