সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মেটাল জাতের লাউ আবাদ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় চাষি মাজেদ। উপজেলার রামনগর গ্রামের মাঠে প্রায় আট শতক বা পাঁচ থেকে ছয় কাঠা জমিতে তিনি এই উন্নত জাতের লাউ চাষ করেছেন। রোপণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ফলন তোলা শুরু হওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম মেলায় স্বল্প ব্যয়ে এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিগত তিন থেকে চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে লাউ চাষ করে আসা এই কৃষক চলতি মৌসুমেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন।
স্বল্প পুঁজির এই সবজি চাষ গ্রামীণ কৃষকদের নিয়মিত নগদ আয়ের জোগান দিচ্ছে। লাউ চাষের জন্য মূলত উঁচু এবং পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থাসম্পন্ন বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। জমিতে জলাবদ্ধতা থাকলে গাছের গোড়া পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আষাঢ় মাস শুরুর ঠিক পূর্বে অর্থাৎ গরমের শুরুতে বীজ রোপণ করলে গাছে সবচেয়ে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং গ্রীষ্মকালীন বাজারে এর বাড়তি দাম মেলে। জমি প্রস্তুতির সময় দুটি গভীর চাষ দিয়ে বেড তৈরি করতে হয়। প্রতি কাঠা জমিতে সব মিলিয়ে মাত্র এক কেজি হারে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার প্রয়োগ করা যথেষ্ট, যা বিঘা প্রতি হিসেবে প্রায় ২০ কেজি মিশ্র সারের প্রয়োজন মেটায়।
চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পার হলে গাছের চারপাশ থেকে অন্তত এক থেকে দেড় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রতি মাদায় ৫০ গ্রাম করে মিশ্র সার ছিটিয়ে দিতে হয়। সরাসরি গাছের গোড়ায় সার দিলে শিলা ও শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গাছ মারা যেতে পারে। রোপণের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে গাছে নতুন ডগা ছাড়লে বাঁশ ও সুতলি দিয়ে মাচা বা জাংলা তৈরি করে দিতে হয়। এই মাচায় গাছ উঠে যাওয়ার পর প্রতি গিটে গিটে ফুল ও ছোট লাউ আসতে শুরু করে, যা পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আকার পায়। পোকা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে গাছ বের হওয়ার এক সপ্তাহ পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে অনুমোদিত কীটনাশক ও এসিফেট বা ইমিডাক্লোপ্রিড জাতীয় বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিহত করতে কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। গাছের অতিরিক্ত ডালপালা ও নিচের হলুদ বা নষ্ট পাতা নিয়মিত কেটে পাতলা করে দিলে ভেতরের অংশে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পৌঁছায় এবং পচন রোগ কমে। তবে কাণ্ডের ফেটে যাওয়া ও আঠা বের হয়ে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার মতো কিছু জটিল সমস্যা নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দেন অভিজ্ঞরা।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এক বিঘা জমিতে বাঁশ ও সুতলির মাচা তৈরিতে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা এবং সার ও বালাইনাশক বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকাসহ মোট ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। রোপণের ৬০ দিন পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ লাউ সংগ্রহ শুরু করা যায়। জমি থেকে প্রতি একদিন বা দুই দিন পর পর গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত লাউ তোলা সম্ভব হয়। প্রতিটি লাউ পাইকারি বাজারে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলনের পূর্ণ মৌসুমে মাত্র এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান চাষিরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন