সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ক্রমাগত হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। রিয়াদকে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিতে আঙ্কারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় এই কারিগরি ও সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
একটি সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যৌথ চুক্তির আলোকে একটি কার্যকর জোটগত বোঝাপড়া রয়েছে এবং তুরস্ক এই বিষয়ে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিশেষ কিছু সামরিক ও কারিগরি সহায়তা লাগতে পারে, যা সরবরাহ করতে আঙ্কারার কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামরিক সহায়তার বিষয়ে সৌদি আরবের অনুরোধ সম্প্রতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই মাস হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোষ্ঠীটির একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ফিদান আরও বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদ এই আঞ্চলিক সংঘাতে যুক্ত হতে চায় না। যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে সব পক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, তবে সেগুলোর বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেননি। এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এই হামলার পর শহরের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রত্যক্ষ করা যায়। এর আগে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাতভর রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন