শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ বার হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ বার হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই দাবি করেছে। এর ফলে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়েমেনে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার হুথিরা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অবস্থানে ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে।

এদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার শুক্রবার দাবি করেছে, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় তীব্র সংঘর্ষে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও ষাটের বেশি মানুষ। চলতি সপ্তাহে যেসব অঞ্চলে লড়াই চরম আকার ধারণ করেছে, আল-ওয়াজিইয়াহ তার মধ্যে অন্যতম। সরকারের সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে মিছিল করেছেন। তারা ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেন। একই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের একটি বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই এলাকার মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। উভয় পক্ষের প্রতিবেদনে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার পর সেখানে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, তাইজ এবং আবস শহরে সৌদি জোটের হামলায় উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে।

ইয়েমেনের এই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনায় পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়েছে, তবে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছে। হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের তৎপরতার কারণে কৌশলগত বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশ্ব বাণিজ্যের অবাধ চলাচলের জন্য বাব-এল-মান্দেব একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর নৌপথ।

বৈঠকে হুথিরা মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানা গেছে যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাবে না। ইতিমধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুথিদের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সংঘাতের কারণে নতুন কোনো ফ্রন্ট উন্মুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে মোতায়েন জোটটির নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’ তাদের সতর্কতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অঞ্চলটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার কারণে এই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

কায়া কালাস তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ডের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও চরম ক্ষতিকর। তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।