সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বর্তমান বাংলাদেশ সরকার পর্যালোচনা করছে বলে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়টি ভারত সরকারের নজরে এসেছে। দ্বিপক্ষীয় এই প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
প্রেস ব্রিফিংকালে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিক জানতে চান যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য বা বার্তা জানানো হয়েছে কি না। প্রশ্নের সরাসরি জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তারা বেশ কিছু গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন লক্ষ্য করেছেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের এখনো পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই ভারত তার নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষার স্বার্থে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। এসব চুক্তির শর্তে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো ধারা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিগুলো জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ত্রিশ বছর মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। ঐতিহাসিক এই চুক্তির নবায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, গঙ্গার পানিবণ্টনসহ পানি-সম্পর্কিত যাবতীয় দ্বিপক্ষীয় স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন কাঠামো কার্যকর রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অভিন্ন নদীর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন