শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
তরুণ উদ্যোক্তার সংগ্রাম

ফেলনা বোতল বদলে দিচ্ছে এক দম্পতির ভাগ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

ফেলনা বোতল বদলে দিচ্ছে এক দম্পতির ভাগ্য

ভাঙ্গারির দোকানে পড়ে থাকা বাতিল কাচের বোতল সংগ্রহ করে তাতে রং-তুলির নকশা আর রঙিন আলোর সংমিশ্রণে দৃষ্টিনন্দন শোপিস তৈরি করছেন এক তরুণ দম্পতি। ফেলনা বোতলে আঁকা এসব শিল্পকর্ম বিক্রি করে আত্মকর্মসংস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাঁরা। শুরুর দিকে নানা ধরনের প্রতারণা ও সংকটের মুখোমুখি হলেও এখন প্রতিদিন একশতটিরও বেশি বোতলের পার্সেল পৌঁছে দিচ্ছেন সারা দেশের ক্রেতাদের হাতে।

উদ্যোগটির পেছনের গল্প শুরু হয়েছিল পারিবারিক একটি সাধারণ শখ থেকে। ভ্যানে করে বাসার সামনে কাচের বোতল বিক্রি করতে দেখে স্ত্রী অর্পা ঘরের শোভাবর্ধনে ফুলদানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কয়েকটি বোতল সংগ্রহ করে নিজস্ব তুলিতে নকশা করেন। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া ভ্রমণের সময় সেখানকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বোতলের ভেতর নান্দনিক বাতি দিয়ে সাজসজ্জা দেখে উৎসাহিত হন এই দম্পতি। সেখান থেকেই বাতিল কাচকে উপজীব্য করে বাণিজ্যিক উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চীন থেকে বিশেষ ধরনের বাতি আমদানি করা হয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন ভাঙ্গারির দোকান থেকে বাতিল কাচের বোতল সংগ্রহ শুরু করেন এই তরুণ। শুরুতে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিনের জমে থাকা এসব বোতলের কোনো দাম পর্যন্ত নিতে চাননি। পরে সেগুলো নিবিড়ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে গুগল, ইনস্টাগ্রাম ও পিন্টারেস্টের বিভিন্ন নকশার ধারণায় রং ও তুলিতে সাজিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন শুরু করেন তাঁরা।

প্রতিযোগিতার বাজারে পথচলা মসৃণ ছিল না। অনলাইনে ব্যবসা কিছুটা পরিচিতি পেলে অন্য একটি বাণিজ্যিক পেজের পক্ষ থেকে ডিজাইন নকলের ভুয়া অভিযোগ তুলে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনজন ক্রেতার পরিচয়ে একশত পঞ্চাশটি বোতলের ভুয়া অর্ডার তৈরি করে পার্সেল পাঠানো হয়। পণ্য ডেলিভারির সময় কোনো অগ্রিম টাকা না নিয়ে পার্সেল পাঠানোর পর কথিত ওই ক্রেতারা ফোন বন্ধ করে দেয় এবং পণ্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এতে ডেলিভারি ও রিটার্ন চার্জসহ প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এই দম্পতি। এ ঘটনার পর হতাশা ও মানসিক অবসাদে পড়ে সাময়িকভাবে দুই দিন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে পরিবারের উৎসাহ ও স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় আবারও ঘুরে দাঁড়ান তাঁরা।

বর্তমানে তাঁদের পেজে প্রতিদিন একশতটিরও বেশি কাচের বোতলের চাহিদা তৈরি হয়েছে।

অনেকে ব্যক্তিগত স্মৃতি সংরক্ষণে নিজেদের ব্যবহৃত বোতল পাঠিয়েও কাস্টমাইজ আর্ট করিয়ে নিচ্ছেন। শিশুদের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা ঘরের সাজসজ্জার জন্য উপহার হিসেবে এসব কাচের শোপিস এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারেও ফুটপাতের খুচরা বিক্রেতারা তাঁদের কাছ থেকে পাইকারি নিয়ে এই শিল্পকর্ম বিক্রি করছেন।