সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জীবনের প্রথম অপেক্ষা, প্রথম ভালো লাগা কিংবা না-বলা অনুভূতির স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে ফিরে এসেছে প্রথম প্রেম দিবস। প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে দিনটি উদযাপিত হয় জীবনের প্রথম ভালোবাসার মানুষটিকে স্মরণ করার বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটির আনুষ্ঠানিক প্রচলন শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের নানা প্রান্তে দিনটি পরিচিতি লাভ করে।
প্রথম প্রেম অনেক সময় নিঃশব্দেই জীবনে প্রবেশ করে। কারও হাসি ভালো লাগা, দেখা না হলে মন খারাপ হওয়া কিংবা কথা বলার সুযোগে অকারণ আনন্দ পাওয়ার মধ্য দিয়েই এই অনুভূতির সূচনা ঘটে। কখন যে সেই সাধারণ ভালো লাগা প্রেমে রূপ নেয়, তা অনেকেই শুরুতে বুঝে উঠতে পারেন না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের বহু প্রথম অভিজ্ঞতা—প্রথম দেখা, প্রথম কথা বলা, প্রথম একসঙ্গে হাঁটা কিংবা আড়াল থেকে কাউকে দেখার অনুভূতি। সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত পরিণতি পাক বা না পাক, এই স্মৃতিগুলো অনেকের জীবনে অমূল্য হয়ে থাকে।
বাংলা সাহিত্য ও সংগীতেও প্রথম প্রেম বারবার ফিরে এসেছে। সংগীতশিল্পী নচিকেতার গানে যেমন প্রথম ভালোবাসার স্মৃতি উঠে এসেছে, তেমনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাদেব সাহা ও আহসান হাবীবসহ বিশিষ্ট কবিদের রচনায় প্রেমের আনন্দ, অপেক্ষা ও বিচ্ছেদের নানা রূপ ধরা পড়েছে। সব ক্ষেত্রে প্রথম প্রেমের গল্প পূর্ণতা পায় না। কারও জীবনে তা পরিণতির রূপ নেয়, আবার কারও কাছে তা অপূর্ণ এক স্মৃতি হয়ে আজীবন থেকে যায়।
কেউ প্রথম ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গেই বাকি জীবন কাটান, আবার কেউবা নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পুরোনো অধ্যায় পেছনে ফেলে এগিয়ে যান। মানুষের জীবনে প্রথমবার কাউকে ঘিরে যে তীব্র আবেগ ও অনুভূতির জন্ম হয়, পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো সম্পর্কের সঙ্গে তার তুলনা মেলে না। লেখক ও গবেষক হুমায়ুন আজাদের একটি বহুল উদ্ধৃত উক্তি রয়েছে, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই; মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম।
১৮ সেপ্টেম্বর পুরোনো সেই স্মৃতির পাতায় চোখ বুলানোর একটি বিশেষ মুহূর্ত এনে দেয়। প্রথম ভালো লাগার মানুষটি বর্তমানে জীবনে উপস্থিত থাকুন বা না থাকুন, তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মনের কোণে বিশেষ স্থান দখল করে থাকে। আর সেই ভালোবাসার মানুষটি আজও পাশে থাকলে দিনটি যুগলের জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন