সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
শারীরিক পরিশ্রমের পর কিংবা খাবার গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে ক্ষুধা অনুভব করা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে আহার গ্রহণের পরও যদি বারবার খাবারের তীব্র তাগিদ তৈরি হয়, তবে তা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শারীরিক জটিলতার স্পষ্ট সংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কেবল কম খাওয়ার কারণে ক্ষুধা লাগছে ভেবে নেওয়া সঠিক নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের পরিধি ও অন্তর্নিহিত রোগের ওপর দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
জীবনযাপনে ভারসাম্যের অভাবই ক্ষুধার প্রধান নিয়ামক। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও আঁশজাতীয় উপাদানের ঘাটতি থাকলে দ্রুত পেট খালি হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়। পরিশোধিত শর্করা দিয়ে তৈরি খাবার দ্রুত হজম হয়ে সাময়িক শক্তি জোগালেও দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে পারে না। খাদ্যবিজ্ঞানীদের মতে, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, পনির ও বাদামের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যের ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। তাই কেবল সাদা ভাত বা রুটির বদলে খাবারের থালায় ডাল, সবজি ও সালাদের সুষম সংমিশ্রণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তৃষ্ণার অনুভূতিও শরীরে বিভ্রান্তি তৈরি করে। শরীরে তরল পদার্থের সংকট দেখা দিলে মানুষ অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধার অনুভূতি হিসেবে ভুল করে বসে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে বা ভারী শারীরিক অনুশীলনের পর হঠাৎ কিছু খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হলে প্রথমে পানি পান করে দেখা উচিত। পাশাপাশি মানসিক চাপের ফলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলেও শরীর বারবার খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, যা মূলত একঘেয়েমি বা আবেগজনিত অস্থিরতা মোকাবিলার অবচেতন চেষ্টা মাত্র।
ঘুমের অনিয়ম খাদ্যের চাহিদাকে সরাসরি বাড়িয়ে তোলে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী ওবেসিটিজ-এ প্রকাশিত গবেষণা জানাচ্ছে, পরিমিত ঘুমের অভাবে মানবদেহের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের হরমোন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, যার ফলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি টান বাড়ে। একইভাবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার রক্তে শর্করার দ্রুত উত্থান-পতন ঘটিয়ে ঘনঘন ক্ষুধার উদ্রেক করে। আবার কায়িক শ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে হঠাৎ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দিলেও শরীরের শক্তির ঘাটতি থেকে অতিরিক্ত ক্ষুধা হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ক্ষুধা ডায়াবেটিস কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থির অতিসক্রিয়তার পূর্বলক্ষণও হতে পারে। ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের অকার্যকারিতার কারণে রক্তে থাকা গ্লুকোজ যখন কোষে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়, তখন শরীর ক্রমাগত ক্ষুধার সংকেত পাঠাতে থাকে। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘনঘন প্রস্রাব, দ্রুত ওজন হ্রাস কিংবা বুক ধড়ফড়ের মতো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন