বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
পোশাক খাতে উসকানি

পোশাক শিল্পে সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

পোশাক শিল্পে সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল সরাসরি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে সমগ্র দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের কোনো ধরনের অমীমাংসিত দাবিদাওয়া অবশিষ্ট নেই। তা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত চক্রান্তকারী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি কারখানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

সহিংসতার নেপথ্যের কুশীলবদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্বে থাকা একাধিক গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক উসকানিমূলক ভূমিকার তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু মাফিয়া চক্র ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত চক্রান্তের সাহায্যে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছে।

শ্রমিকদের নতুন বেতন স্কেল ও মজুরি বোর্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতি তিন বছর পর পর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শ্রমিকদের। সরকার ইতোমধ্যেই সেই বোর্ড গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা বিলম্ব হলেও নাম পাওয়ার সাথে সাথেই বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বোর্ডের প্রথম কার্যনির্বাহী সভাও সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, একজন সিনিয়র জেলা জজের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশের চলমান মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যয় বিবেচনায় এনে আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে শ্রমিক ও শিল্পবান্ধব উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ নিশ্চিত করা। সরকারের মূল লক্ষ্য জাতীয় রপ্তানি বৃদ্ধি, টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তৈরি পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে সরকারের পৃথক ও যৌথ দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, রাজপথে চলমান বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়; বরং কতিপয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বাহিনীকে কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের নামে সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেছেন। তবে ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত মূল অপরাধী চক্রকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এ সময় সাধারণ শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো প্রকার উসকানি, অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকদের অনতিবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া উচিত। শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলে শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে, যা তাদের নিজস্ব কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকেও সুরক্ষিত রাখবে।

সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, তিনি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আটক হয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকার কারণেই এই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। উক্ত প্রেস ব্রিফিংকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।