নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারের পোশাক শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি কঠোর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল এক পোস্টে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, আন্দোলনরত প্রকৃত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও যদি অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজকতা চলতে থাকে, তবে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সেই অরাজকতা কঠোরভাবে থামানোর দায়িত্ব বহন করবে সরকার।
সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে রাশেদ খাঁন শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার পেছনের সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করে লেখেন, গাজীপুর অঞ্চলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ অর্থায়নে তাঁর অনুসারীরা সাধারণ শ্রমিক সেজে তাণ্ডব চালাচ্ছেন। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচির আর্থিক সহযোগিতায় শ্রমিকদের আন্দোলনের উছিলায় নতুন করে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে পোশাকখাতের এই অসন্তোষ ও উদ্ভূত সংকট দূর করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতনের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে রাশেদ খাঁন জানান, একমত হওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই শ্রমিকদের নতুন বর্ধিত মজুরি কার্যকর করা হবে। ফলে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের প্রাপ্ত বেতনের সাথে শ্রমিকরা এই নতুন কাঠামোর বর্ধিত টাকা হাতে পাবেন। পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক পক্ষের শীর্ষ নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
শিল্প কারখানার নিরাপত্তা রক্ষা বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেছে। নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জাতীয় শিল্পকারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব মূলস্তরে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখা।
বার্তার শেষভাগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রকৃত খেটে খাওয়া শ্রমিকদের দাবি ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। এর পরও যদি তথাকথিত শ্রমিক আন্দোলনের নামে ফ্যাসিস্ট শক্তির কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উসকানিমূলক আস্ফালন দেখা যায়, তবে তা পূর্ণ শক্তিতে মোকাবিলা ও সম্পূর্ণ দমন করতে বিএনপি সরকার শতভাগ বদ্ধপরিকর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন