নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে স্বল্প বেতনে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিদ্যমান সংকট নিরসনে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সাথে দ্রুত আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দলের অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা যুক্তিসঙ্গত দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলন চলার কারণে বহু পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দু-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে সম্প্রতি এক পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার সন্তান পোশাক শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’
দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ও প্রধান রপ্তানি খাতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে যদি বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে, তবে পুরো দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।
সরকার এখনো পর্যন্ত উদ্ভূত সংকট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ, নিত্যপণ্যের ও দ্রব্যমূল্যের এই সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির দিনে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার নিয়ে জীবন ধারণ করা সত্যিই অসম্ভব। উভয় পক্ষের সাথে বসে আলোচনা করে অবিলম্বে তাদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল।’
জাতীয় অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা ঠিক যে শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও সমভাবে সত্য যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, দেশের ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে।’
শিল্পাঞ্চলের সাময়িক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী যেন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
একই সাথে আন্দোলনরত শ্রমিক ভাই-বোনদের উদ্দেশে নিজেদের কর্মসংস্থান ও কারখানা রক্ষা করার জন্য সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকার ও দাবির পক্ষে আছি, তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে অক্ষত রাখুন। কারণ শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারা বেঁচে থাকবেন।’
অন্যথায় কারখানা মালিকদের উদ্দেশেও কথা বলেন তিনি। মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন