নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পুলিশ সদস্য এবং তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিপুল পরিমাণ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে দুপুর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া এবং শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এবং উলাইল এলাকার আল-মুসলিম কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুর পদ্মার মোড়ে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা চালান সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম। এ সময় বিক্ষুব্ধরা ওসির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে গুরুতর আহত করে। একই সময়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় ওসি সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একই স্থানে সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিন সংবাদকর্মী। আহত সাংবাদিকেরা হলেন ৭১ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি। সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
সাভারে কিছুটা উত্তেজনা কমলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা। বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে সরাসরি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুরো আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগে আশুলিয়া থানা পুলিশ মবিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। জানা গেছে, ওই ব্যক্তি আগেও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
সাভারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া জানান, শ্রমিকদের অতর্কিত হামলায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সাভার এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে শিল্প পুলিশের আওতাধীন সকল এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনো যান চলাচলে বাধা নেই। সকালে শ্রমিকরা শান্তভাবে কারখানায় প্রবেশ করলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানা ছুটি ঘোষণা করেন। আল-মুসলিম থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত পিকেটিং করার চেষ্টা চালানো হলেও ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং বিজিবি একযোগে কাজ করে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন