নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনপদকে মাদক ও চোরাচালানের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) রাতব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় উপাদান ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কিশোরীগঞ্জ বিওপির একটি ক্ষিপ্র টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী পঁচাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে মাদক সেবনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।
একপর্যায়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে ১৯ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের একাধিক সরঞ্জাম এবং ৫টি ডিজিটাল মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—বিরল উপজেলার বেতুড়া গ্রামের মোঃ আঃ রহিমের ছেলে মোঃ লাইচু (২৭), পঁচাপাড়া গ্রামের মোঃ আজিজুর রহমানের ছেলে মোঃ সাখাওয়াত (২৮), বিরল সদরের মোঃ নাসিরুদ্দিনের ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (৩৫), বেতুড়া গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মাজেদুর রহমান (৩২) এবং গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মোঃ জাফরুল ইসলাম (২৩)।
গ্রেপ্তারকৃতদের উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য, সেবনের সরঞ্জাম এবং মোবাইল ফোনসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এনায়েতপুর, চাপসার এবং চান্দেরহাট বিওপির টহলদল নিজ নিজ সীমান্ত এলাকায় পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।
এসব অভিযানে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলা এবং প্রতিবেশী ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত ও মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ আমদানিকৃত সিরাপ এবং ৯৪০ পিস বিপজ্জনক নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সার্বিক মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামালের মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।
জব্দকৃত মাদকের বিষয়ে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সাথে এসব অবৈধ কারবারে জড়িত বা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সীমান্ত জুড়ে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সার্বিক সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক নম্বরধারী কর্মকর্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের সার্বিক স্থিতিশীলতাকেও চরম হুমকির মুখে ফেলে।
তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী অপরাধমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান সম্পূর্ণ আপসহীন। অপরাধীদের পরিবর্তিত কৌশল ও পদ্ধতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন