নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা খাঁটি সোনার মূল্যবৃদ্ধির জোরালো প্রবাহে বাংলাদেশে আবারও এক লাফে বেড়ে গেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সমন্বয় করে দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর অফিশিয়াল ঘোষণা দিয়েছে।
সংগঠনটির নতুন মূল্য নির্ধারণী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকেই সারাদেশে সংশোধিত এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) বাজুস সবশেষ সোনার দাম নির্ধারণ করেছিল। এর ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, স্থানীয় বাজরে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক মূল্যপ্রবণতা গভীর পর্যালোচনা করে নতুন সমন্বিত দর ধার্য করা হয়েছে। গহনার এই নির্ধারিত বাজারদরের সাথে বাধ্যতামূলক সরকারি ভ্যাট যুক্ত থাকবে।
স্মারক বিজ্ঞপ্তিতে অলঙ্কার ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আরও জানানো হয়, যেকোনো স্বর্ণালঙ্কার তৈরির ক্ষেত্রে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকার্যের ধরনভেদে নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে বিক্রয়ের নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ইতোমধ্যে ভ্যাট যুক্ত থাকায় জুয়েলারি শপগুলো আলাদা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবে না।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ পঞ্জিকাবর্ষে এ নিয়ে দেশের বাজারে মোট ১৩২ বার স্বর্ণের দর সমন্বয় করল বাজুস।
এই ১৩২ বারের সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬৭ দফায় দাম কমানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এক দফায় ভ্যাটের হার সমন্বয় করেছিল সংগঠনটি।
এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দর পুনর্নির্ধারণ করেছিল। সেই বছর ৬৪ দফায় দাম বাড়ানোর বিপরীত সমীকরণে ২৯ দফায় দাম কমানো সম্ভব হয়। চলতি বছরের প্রথম দশ মাসেই সমন্বয়ের মোট সংখ্যা আগের বছরের পুরো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন