নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, চার মাসে একক বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৩৩৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৩০০ কোটি ডলার। দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে একক এই পরাশক্তি বাজার থেকে।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই মেয়াদের তুলনায় এটি ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। সার্বিক রপ্তানি বৃদ্ধির তুলনায় মার্কিন বাজারে প্রবৃদ্ধির গতি দ্বিগুণ।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও এই অগ্রগতি ধরে রাখা গেছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। এত বড় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।"
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের কারখানাগুলো নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নীতি মেনে বিদেশি ক্রেতাদের ভরসা অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছে।
অক্টোবরের একক মাসেও প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যা ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে একক মাসে আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। এর পাশাপাশি অক্টোবরে বিশ্বজুড়ে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি নতুন ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও পণ্য সরবরাহ বাড়ছে।
চলতি অর্থবছরের চার মাসে সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে আঙ্কারার বাজার থেকে আয় এসেছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ইউরোপের দেশ স্পেনেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাজ্য। জুলাই-অক্টোবর সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি থেকে এসেছে ১৭৪ কোটি ডলার।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে চার মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। এরপর ক্রমানুসারে রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।
প্রচলিত বড় বাজারে অবস্থানের বিষয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক কাঠামোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক রপ্তানিতে।
মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, "অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক এড়ানোর বিষয়ে আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ধারাবাহিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।"
অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানি বাজারের ভৌগোলিক বহুমুখীকরণ করা গেলে আন্তর্জাতিক মন্দার প্রভাব এড়ানো সহজ হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন