মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

আমি হয়তো না-ও ফিরতে পারতাম: তানিয়া বৃষ্টি

বিনোদন ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

আমি হয়তো না-ও ফিরতে পারতাম: তানিয়া বৃষ্টি

ছবি: সংগৃহীত

তানিয়া বৃষ্টি দীর্ঘ নয় মাসের কঠিন চিকিৎসা ও জীবনমৃত্যুর টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্তকরণ, পরপর তিনটি অস্ত্রোপচার এবং কেমোথেরাপির দীর্ঘ ক্লান্তি জয় করে নতুন উদ্যমে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চেনা জগতে ফিরলেন তিনি। পরিচালক ইকসান রনির নির্মিত ‍‍`অংশীদার‍‍` নাটকের মাধ্যমে তার এই আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। গত ২৬ অক্টোবর নাটকটির দৃশ্যধারণ শুরু হয় এবং টানা দুই দিন শুটিংয়ে অংশ নিয়ে নিজের অংশের কাজ শেষ করেন এই অভিনেত্রী।

অসুস্থতার ভয়াল দিনগুলো পেছনে ফেলে এসেছেন তিনি।

শুটিং সেটে ফিরে সহকর্মীদের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তানিয়া। শুটিং ইউনিটের প্রতিটি সদস্য তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। এই আন্তরিক পরিবেশ তাকে নতুন করে কাজের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার আচরণ দেখে তার মনে হয়েছে সহকর্মীরা এতদিন তার সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষাতেই ছিলেন।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর এক ভার্চুয়াল লাইভে এসে অভিনয়ে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময় চলতি মাস থেকেই শুটিংয়ে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা ভক্তদের সাথে ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।

তানিয়ার অসুস্থতার সূত্রপাত ঘটেছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। একটি নাটকের শুটিং চলার সময় হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা চেপে রেখে টানা চার দিন শুটিং চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে অনবরত বমি হতে থাকলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান তার মস্তিষ্কে টিউমার বাসা বেঁধেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রথম টিউমারটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৯ মার্চ উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে এমজিএম হাসপাতালে আরও দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয় এবং পরবর্তীতে শুরু হয় কেমোথেরাপির জটিল প্রক্রিয়া।

চেন্নাইয়ের এক অনকোলজিস্টের কাছে নিজের আয়ু সংক্রান্ত একটি মর্মান্তিক পূর্বাভাস পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ওই চিকিৎসক জানিয়েছিলেন তার সম্ভাব্য আয়ু হয়তো আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর হতে পারে। প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অভিনেত্রী পরিবারের সাথে বিদায়ের সুরে কথা বলতেন। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবনতির চরম পর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়েছিল। আইসিইউর অচেনা পরিবেশে জ্ঞান ফেরার পর ভয় পেলেও পাশে মা ও বোনকে দেখে তিনি বেঁচে থাকার সাহস খুঁজে পান।

অসুস্থতার সময়গুলোতে মায়ের অকৃত্রিম ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তানিয়া। বাবা বেঁচে না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবাযত্ন করেছেন তার মা। এ ছাড়া মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের বহু সহকর্মী নিয়মিত তার চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর মিথ্যা গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।

তানিয়ার প্রত্যাবর্তনের নাটক ‍‍`অংশীদার‍‍`-এর মূল উপজীব্য পারিবারিক সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য উত্তরাধিকার। বাবার মৃত্যুর পর দুই বোনকে পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালান পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যরা, যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান বড় বোন। ফারুক আহমেদ রানা ও নন্দী জুয়েলের সংলাপে নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, ডলি জহুর, নন্দী জুয়েল, আশরাফুল আশীষ, পংকজ মজুমদার, দেলোয়ার উদ্দিন, সিদ্দিক মাস্টার, কাকন চৌধুরী ও তাসমিয়াহ টিনা। নাটকটি অচিরেই একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে।

২০১২ সালে ভালোলাগা থেকে অভিনয়ে আসা তানিয়া বৃষ্টি এবারও সেই গভীর ভালোবাসা নিয়েই নিজের ক্যারিয়ারকে সামনে এগিয়ে নিতে চান। একই সাথে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, রোগের নাম শুনে মনোবল হারালে চলবে না। মানসিক দৃঢ়তা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লড়াই চালিয়ে গেলে নিশ্চিতভাবেই সুস্থ জীবনে ফেরা সম্ভব।