সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিতে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুনের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুনের দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। অন্যদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রধান চলাচল রুটগুলো এখনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে বলে পাল্টা দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। নৌপথে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আইআরআইবি জানিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নয় দিনে হরমুজ প্রণালিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটে। এমনকি আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি সাগরের তলদেশে নিমজ্জিত হয়েছে বলেও দাবি করেছে এই ইরানি গণমাধ্যম।

এর বিপরীতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির প্রধান নৌপথ দিয়ে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। একটি আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রণালির আকাশসীমায় সামরিক পর্যবেক্ষণ চালানোর সময় সেখানে ইরানের নৌবাহিনীর কোনো যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি তাদের নজরে পড়েনি।

তবে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার এক ভিন্ন উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল অক্টোবর মাসেই ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ৩০টি পৃথক হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের পর্যালোচনানুযায়ী, এক মাসের পরিসংখ্যানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার এটি সর্বোচ্চ ও রেকর্ডসংখ্যক নজির।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে ইরান। মূলত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করাই তেহরানের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য। সংঘাত শুরুর আগে গোটা বিশ্বের মোট ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই একক নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় দাবি করে আসছেন যে ইরানের নৌবাহিনীর মূল সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে সক্ষম হচ্ছে।

উভয় পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেও ওই অঞ্চলে ইরানের লাগাতার হুমকি ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার শঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর বিমা প্রিমিয়াম ও সার্বিক পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক পরিবহনের এই লাগামহীন ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তারে তেহরানকে নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।