নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
শেফালী বেগম প্রমাণ করলেন শিক্ষার ক্ষেত্রে বয়স কখনোই অন্তরায় হতে পারে না। সংসারের হাজারো দায়িত্ব আর সমাজসেবার ব্যস্ততা সামলে ৫২ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শেফালী বেগম এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ২১ অর্জন করেছেন। এক সময়ের জনপ্রতিনিধি এই নারীর এমন কৃতিত্বে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকাজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
শেফালী বেগমের শিক্ষাজীবনের গল্পটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। পারিবারিক সিদ্ধান্তে মাত্র দেড় বছর বয়সে ফুফাতো ভাই মোকছেদুল আলমের সাথে বিয়ে হয় তার। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হয় তাকে। এর মধ্য দিয়ে সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা পুরোপুরি থেমে যায়।
বইয়ের পাঠ চুকিয়ে যেতে বাধ্য হলেও শিক্ষার প্রতি ভেতরের তীব্র অনুরাগ তিনি কখনো হারাননি। সংসার সামলানো এবং সন্তানদের লালন-পালনের পাশাপাশি তিনি যুক্ত হন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে। ২০১১ সালে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর টানা দুই মেয়াদে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে ২০২০ সালে আবারও বই হাতে তুলে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন শেফালী বেগম। এই কাজে সবচেয়ে বড় সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগান তার স্বামী ও ছেলে। তিনি ডোমার উপজেলার গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ভর্তি হন। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে ২০২৩ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৪ দশমিক ২৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
অধ্যবসায়ই তাকে পথ দেখায়।
এসএসসির সেই অসাধারণ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৪ দশমিক ২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হলেন। একদিকে পুরো সংসারের নিয়মিত কাজ, অন্যদিকে গভীর মনোযোগে পড়াশোনা চালানো ছিল এক কঠিন লড়াই। সব সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে তিনি লক্ষ্য অর্জন করেছেন। শেফালী বেগমের এই অনন্য অর্জনে তার স্বামী, সন্তান, নাতনি ও প্রতিবেশীরা গভীর গর্ব প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে গ্রামীণ নারীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাজীবনে নতুন করে এই সাফল্য মানুষের সামনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। কোনো বাধা বা বয়সের সীমারেখা যে ইচ্ছাশক্তির কাছে টিকে থাকতে পারে না, শেফালী বেগমের এই সফল পথচলা তারই বাস্তব প্রমাণ তুলে ধরল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন