নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
বিনা জামানতে ঋণ ও অনুদান সহায়তার মাধ্যমে দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে অর্থায়ন কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উদ্যোগ’ শীর্ষক এ কর্মসূচির আওতায় দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে। রোববার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে।
নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে এবং বাকি ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে এককালীন অনুদান হিসেবে। ঋণ ও অনুদানের সম্পূর্ণ অর্থ একসঙ্গে এককালীন ছাড় করা হবে। অনুদানের এই অর্থের যোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে।
আগ্রহী উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিজ নিজ উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় আবেদন ফরমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
এর আগে কর্মসূচির প্রাথমিক ধাপে দেশের আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত সেই কার্যক্রমে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়ে।
প্রাথমিক ধাপের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নেত্রকোণায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫১টি আবেদন জমা পড়েছিল। এ ছাড়া রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিশেষ প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’। উপজেলা পর্যায়ের সুপ্ত ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় প্রার্থীরা আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি উপজেলায় আবেদন মূল্যায়নে একটি বিশেষজ্ঞ বাছাই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। ওই কমিটিতে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের পেশাগত বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশের আলোকেই যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করে অর্থায়ন করা হবে।
কর্মসূচির যাবতীয় পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। এসএমইএসপিডি সার্কুলার নম্বর শূন্য পাঁচের মাধ্যমে প্রচারিত এই বিস্তারিত নীতিমালা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও এসএমই পোর্টালে উন্মুক্ত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন