সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

খুলনায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪ হত্যাকাণ্ড

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

খুলনায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪ হত্যাকাণ্ড

খুলনায় ৩৬ ঘণ্টায় চার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় জেলাজুড়ে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র দেড় দিনের ব্যবধানে মহানগরী ও রূপসা উপজেলা মিলিয়ে এই চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সোমবার দুপুরে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহেরচর এলাকার জেলখানা ঘাটসংলগ্ন আলম মেম্বারের ঘাট থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত দুজনের মাথায় গুলির স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

খুলনা জেলায় একের পর এক সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি দৃশ্যমান।

আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭ (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরের কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের আগেই এমন একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় নিরাপত্তা তদারকি বাড়িয়েছে জেলা ও মহানগর পুলিশ।

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দুজনের মধ্যে একজনের নাম মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫)। তিনি রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে এবং পেশায় জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন। অপরজনের নাম রেজাউল করিম (৩০) হিসেবে জানা গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বেলা এগারোটার দিকে নদীর কাদামাটিতে প্রথমে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরবর্তীতে ভাটার সময় পানি নেমে গেলে কাছাকাছি অবস্থানে দ্বিতীয় মরদেহটির সন্ধান মেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ দুটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জোয়ারের পানির তোড়ে মরদেহ দুটি চরে ভেসে এসেছে। নিহত সোহাগ সন্ত্রাসী দল ‘বি’ কোম্পানির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। রেজাউল করিমের রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা শনাক্তে কাজ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এদিকে রবিবার রাতে রায়ের মহল বড় মসজিদ সংলগ্ন ‘আল-ক্যান্টিনো’ রেস্টুরেন্টে তাঁতী দল নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকে হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা আরাফাতসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে আড়ংঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত শেখ সিদ্দিক (৫৩) নামে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হালিমুর রহমান জানান, বাকি আসামিদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে লবণচরা থানা এলাকার কাশেমিয়া জামে মসজিদ থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, তদন্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামিদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন উল্লেখ করেন, নিহত কলিনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও সাতটি মাদক মামলাসহ মোট আটটি মামলা বিচারাধীন ছিল।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মহানগরীর দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে একটি রেফ্রিজারেটরের কিস্তির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং অন্যটি মাদক সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে সংঘটিত হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, রূপসার ঘটনায় নিহত দুজনকেই অন্য কোনো স্থানে মাথায় গুলি করে হত্যা করার পর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে মরদেহ দুটি নোঙর করা জাহাজের পাশে ভেসে ওঠে, সেখানে গুলি চালানো হলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তা শুনতে পেতেন। নিহত দুজনেরই বাড়ি রূপসা এলাকায় এবং তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। নৌ-পুলিশ ও জেলা পুলিশের একাধিক বিশেষ দল এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে মাঠে নিয়োজিত রয়েছে।