সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে গরিব শাহ মাজারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভটির দক্ষিণ অংশে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এর আগে সকালে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি পর্যবেক্ষণ করেন।

স্মৃতিস্তম্ভটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে নিচ থেকে প্রায় ছয়-সাত ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়ার কালো দাগ পড়ে আছে। তবে আগুন দেওয়ার পর কেউ সেই দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের সংগ্রহ করা আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গভীর রাতে তিন যুবককে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যেতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে দুজন পেট্রল বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় অপর একজন পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ স্মৃতিস্তম্ভটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়ার দাবি করলেও পুলিশ জানিয়েছে তথ্যটি সঠিক নয়। আগুন লাগানোর অপচেষ্টা চালানো হলেও মূল স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত রয়েছে। কেবল দক্ষিণ অংশের দেয়ালে আগুনের কালো চিহ্ন লেগেছে।

অন্যদিকে আগুন দেওয়ার সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধঘোষিত কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। এসব পেজের মধ্যে রয়েছে যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন এবং ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামের পেজ।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানান, রোববার খুব সকালে শহরে একটি ঝটিকা মিছিল হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে কে বা কারা স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।