অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
যশোরের আটটি উপজেলায় এবার মোট ৭৩৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা ২৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো ১০১টি প্রতিমা স্থাপন করে বৃহৎ পরিসরে পূজার বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে এই ৭৩৭টি মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষের সূচনা। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মণ্ডপে এখন পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরি ও আলোকসজ্জার কাজ। খড়, ছন ও এঁটেল মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামোগত প্রাথমিক নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। কারিগররা জানিয়েছেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রতিমাগুলোতে রঙের কাজ শুরু হবে। শহরের বেজপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দিরের ভাস্কর শংকর মন্ডল জানান, এবার তিনি একাই ৩৭টি প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা পৌঁছে দিতে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চাঁচড়ায়। বর্মণপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মণ জানান, প্রতিবছর এই প্রাঙ্গণে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার ১০১টি প্রতিমা দর্শনার্থীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবে। এই বৃহৎ প্রদর্শনী দেখতে দূর-দূরান্তের জেলাগুলো থেকেও বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী আসবেন বলে তারা আশাবাদী। চাঁচড়া সর্বজনীন মন্দিরের সভাপতি তাপস বিশ্বাস উল্লেখ করেন, এমন সুবিশাল আয়োজন এই জনপদে এবারই প্রথম। ইতিমধ্যে পূজার পুরোহিত ও বাদক দল চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং প্যান্ডেলের দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ তোরণ ও মূল মঞ্চ তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।
মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ ভীতিহীন ও শান্তিময় পরিবেশে ভক্তরা যাতে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন জানান, পূজার পবিত্রতা রক্ষা করতে কোনো মণ্ডপেই উচ্চশব্দে গান বা আধুনিক সুর না বাজিয়ে কেবল ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশনের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য সুদৃঢ় রাখতে প্রতিটি মন্দিরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন