নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে এ ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় যান চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার বিভিন্ন শিল্প এলাকার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সকাল থেকে জেলার নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দলে দলে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকেরা।
একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে নেমে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। কোথাও বড় ধরনের কোনো সংঘাত বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। উপস্থিত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দ্রুত সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল সচল থাকে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে প্রতিদিনের মতোই শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যোগ দিতে এসেছিলেন। কয়েকটি পয়েন্টে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের নিরাপদে সরিয়ে দেয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় আগেভাগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকলেও মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়। এর পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ জন থেকে বাড়িয়ে ২৫ জনে উন্নীত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন আরও জানান, পূর্ববর্তী শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ থাকা কয়েকটি কারখানা মঙ্গলবার নতুন করে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতটি কারখানা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন