মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
উপসাগরীয় উত্তেজনা

ইরানে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করল বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

ইরানে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করল বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি চালকবিহীন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর। কেশম দ্বীপের দক্ষিণ জলসীমায় এই অভিযান চালানো হয়।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোরের অ্যারোস্পেস বা মহাকাশ বাহিনী অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা প্রয়োগ করে ড্রোন দুটি নামিয়ে আনে। ড্রোন দুটি মার্কিন বাহিনীর এমকিউএম-১৭০ (MQM-170) মডেলের ছিল। তেহরানের সামরিক পদক্ষেপের কারণে যান দুটি তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

এ নিয়ে একই মডেলের মোট চারটি মার্কিন ড্রোন ইরানি বাহিনীর হাতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর খবর সামনে এলো।

এর আগে গত সপ্তাহেও অনুরূপ দুটি ঘটনার কথা জানায় তেহরান। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছিল, কেশম দ্বীপের আকাশে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই মডেলের একটি ড্রোন নামিয়ে ফেলে আইআরজিসি মহাকাশ শাখা। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার বাহিনীর নৌ শাখা দাবি করে, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় অবতরণ করানো হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবারের ওই ড্রোন আটকের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

উপসাগরীয় জলসীমায় এই সামরিক সংঘাতের মধ্যেও দুই বৈরী দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের বার্তা আদান-প্রদান এখনও চলছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহা সফর করেন। মূলত কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগের পথ সুগম রাখাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় দফায় দফায় পাল্টা আঘাত হানে তেহরান। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১৮ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পানিসীমার সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে সেই চুক্তি এখনও কার্যকর হতে পারেনি।