মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৪২ এএম

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন।

কারামুক্তির সময় তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কেন্দ্রীয় নেতারা জড়ো হন। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। দীর্ঘ দিন কারাভোগের পর তার মুক্তির ঘটনায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামানের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে পরিবারের সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর লাগেজ সংগ্রহকালে ট্রলির স্বল্পতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ এনে যাত্রীদের একাংশের সাথে বিমানবন্দর কর্মীদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একপর্যায়ে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আখতারুজ্জামানকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আটকের পর রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মহানগর দায়রা জজ আদালতেও জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। নিম্ন আদালতে পর পর জামিন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে জামিন আবেদন দাখিল করেন। সেখান থেকে আদেশ পাওয়ার পর তার মুক্তিনামা কারাগারে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি মুক্তি পেলেন।