নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
দলীয় কার্যালয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার জেরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ দুই নেতার সব সাংগঠনিক পদ বাতিল করেছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। পদ হারানো নেতারা হলেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের এই সাংগঠনিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
দলটির কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কুমিল্লা মহানগরের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে দুই হেভিওয়েট নেতার সব পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কাজী দ্বীন মোহাম্মদের মহানগর আমিরের দায়িত্বের পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত সদস্যপদ বা রুকনিয়াতও বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে মহানগর নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হকের নায়েবে আমির পদ এবং দলীয় রুকনিয়াত পুরোপুরি বাতিল করা হয়।
বর্তমানে তারা দুজনই প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগরীর মোগলটুলী এলাকার ফারুকী হাউসে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যাপক ভাঙচুরে রূপ নেয়। ওই ঘটনায় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষের পরপরই পুরো ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমার পরই নির্বাহী পরিষদ কঠোর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানান, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিশদ পর্যালোচনা শেষে দুই নেতার পদ বাতিল করে তাদের সাধারণ সহযোগী সদস্যের স্তরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন