নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে আর এক বা দুটিতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অবশিষ্ট এসব স্থাপনায় আঘাত হানতে ওয়াশিংটনের সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিট।
কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের এই কড়া বক্তব্য নতুন করে সামরিক উত্তেজনা উসকে দিয়েছে।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক পদক্ষেপগুলো ইরানের সামগ্রিক সশস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক পরিকাঠামোকে ধসিয়ে দিয়েছে। এখন হাতে গোনা কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী এখনও এক বা দুটি স্থাপনায় হামলা চালানো প্রয়োজন হতে পারে। পূর্বপরিকল্পনা থাকায় এটি ১০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পিকঅ্যাক্স পর্বতের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, ওই এলাকার বিষয়টিতে নজর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সেখানেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
কাতারের উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যস্থতা আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প জানান যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটনের কোনো তাড়া নেই। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সমরাস্ত্র এবং পারমাণবিক অবকাঠামোর সিংহভাগ ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চলতি সপ্তাহেই ইরানে নতুন করে আক্রমণ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি প্রশ্নকারী সাংবাদিককে পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, এমন প্রশ্ন কেন করা হচ্ছে এবং তিনি আগেভাগে তা প্রকাশ করবেন না।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তার দাবি, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও তাদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় চুক্তি করে আবার তা থেকে সরে যাওয়ার নজির রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দোহার টেবিলে কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি আলোচকদের বৈঠকের পরদিন ট্রাম্পের এই কড়া সামরিক বার্তা প্রকাশ পেল। এর আগে তেহরানেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনায় বসেছিল। কূটনৈতিক উপায়ে চলমান সংকটের অবসান ঘটাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন