অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন একটি খসড়া শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে কাতার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত নিরসনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তেহরান ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে গভীর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রোববার ইরানের কাছে এই নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হয় এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাতার কেবলমাত্র কিছু অগ্রহণযোগ্য প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
মধ্যস্থতাকারীদের বিবরণ অনুযায়ী, কাতারের খসড়ায় উভয় পক্ষের সামরিক উদ্বেগ নিরসনে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে প্রতিদিনের জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরির কার্যকর পদক্ষেপ রাখা হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহের শুরুতে কার্যকর হতে পারে। একই সাথে সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নে তৃতীয় কয়েকটি দেশকে জামিনদার বা গ্যারান্টর হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে প্রধান পক্ষগুলোর অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে রয়ে গেছে।
ওয়াশিংটন চায় আলোচনার সূচনালগ্ন থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কাঠামোগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অন্যদিকে তেহরানের সাফ দাবি, মূল আলোচনা শুরুর আগেই ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর বিদ্যমান বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। নিজেদের পরমাণু প্রকল্প সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের যে অভিযোগ পশ্চিমা বিশ্ব করে আসছে, তা বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় সর্বাত্মক সামরিক হামলার হুমকি দেন। জবাবে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট ধ্বংসাত্মক আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে তেহরান।
উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোও সক্রিয় হয়েছে। গত সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকরা সংকট সমাধানের উপায় খুঁজতে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার কাতারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়, মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করতে হলে ইরানকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি সব ধরনের সামরিক হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
চলমান সংঘাতের তীব্র প্রভাব ইতিমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের প্রথমার্ধে উপসাগরীয় দেশগুলো দফায় দফায় হামলার শিকার হয়েছিল। একই সাথে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে ব্যাপক গোলাগুলি। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে এই যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনসমর্থনে বড় ধরনের নেতিবাচক ধাক্কা দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন