বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
খাদ্য ও পুষ্টিনীতি

নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যে অংশীদারত্ব বাড়ানোর তাগিদ খাদ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যে অংশীদারত্ব বাড়ানোর তাগিদ খাদ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে খাদ্য পুষ্টিকরণ জোরদারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব শীর্ষক এ সেমিনারের যৌথ আয়োজন করে ফর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (ফ্যাব)।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক বেঁচে থাকার অনুষঙ্গ এবং এটি একটি সর্বজনীন মানবাধিকার। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই সরকার প্রতিটি মানুষের পাতে পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দিতে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে কেবল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, খাদ্য বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

দেশের সার্বিক খাদ্যব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও জনস্বাস্থ্যের অনুকূলে ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ পুষ্টি ঝুঁকিতে থাকা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানো সবচেয়ে জরুরি। সাধারণ খাবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান সংযোজন বা খাদ্য পুষ্টিকরণ কার্যক্রমকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সব অংশীদারের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের সমন্বয় ও বাস্তবায়ন গতিশীল করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা প্রয়োজন। এই তিনটি সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনা হলে কাজের গতি বাড়বে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভাই থাপা। ডা. রুদাবা খন্দকারের সঞ্চালনায় সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুষ্টিবিজ্ঞানী ডা. তাহমিদ আহমেদ।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য তুলে ধরেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, মো. ওসমান হারুনী, ফারিয়া শবনম এবং জাকির ইবনে হাই।

প্যানেল আলোচকরা খাদ্য পুষ্টিকরণ কার্যক্রম টেকসই করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের তাগিদ দেন। একই সাথে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা জোরদার এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা এবং পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।