অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
রাজনীতিতে কার ক্ষমতা কতটা বাড়ল বা কমল, তার চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সংস্কার এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি হোটেলে সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যসেবায় কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের তৃণমূল ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মান ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০০ থেকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিবিড় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসব হাসপাতালে আধুনিক শিশু ও স্ত্রীরোগ (গাইনি) বিভাগ যুক্ত থাকবে।
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও বিস্তারিত তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, কোনো দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে, সেই জাতির ভবিষ্যৎ ততটাই উজ্জ্বল হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যসূচিতে একাধিক ভাষা শিক্ষার কার্যকর সুযোগ রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে ট্রাফিক আইন ও সড়ক সচেতনতা সম্পর্কিত বিশেষ পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একে মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্প ও বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের রোডম্যাপ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের বন্ধ থাকা ৪৬টি কলকারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে বৈধ ও সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সার্বিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করছে।
জাপানি উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাপান সরকার অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এজন্য ঢাকাকেও যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি দেশে এলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটবে।
এ সময় প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরে দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এক ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতির মধ্যে সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক ভালো উদ্যোগগুলোতে কারও কোনো দ্বিমত থাকা উচিত নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন