বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,

শেখ হাসিনা হত্যার রাজনীতি কায়েম করেছিলেন: মাওলানা আব্দুস সাত্তার

শহিদুল ইসলাম

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

শেখ হাসিনা হত্যার রাজনীতি কায়েম করেছিলেন: মাওলানা আব্দুস সাত্তার

ছবি: দিনাজপুর টিভি

শেখ হাসিনা প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশে রক্তক্ষয়ী ও হিংসাত্মক হত্যার রাজনীতি কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, জেলা জামায়াতের আমীর ও নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে শুধু জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়নি, বরং পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল এবং শাপলা চত্বরে গভীর রাতে শত শত ধর্মপ্রাণ নিরীহ আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

বিচারের দাবিতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের উদ্দেশে কঠোর অবস্থান জানান।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাযজ্ঞসহ অতীতের সব রাজনৈতিক ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার করতে হবে। অন্যায়কারীদের বিচারে শিথিলতা প্রদর্শন করা হলে সচেতন জনগণ কাউকে সহজে ছেড়ে কথা বলবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিবাদ ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নীলফামারী শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ পাটোয়ারী।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, প্রভাষক ছাদের হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু হানিফা শাহ, শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শহর শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তব্যের পর্ব শেষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাত শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।