অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
মাঠজুড়ে বাঁশের মাচায় সবুজ পাতার ভাঁজে ভাঁজে ঝুলছে কচি লাউ। নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরী মিয়া পাড়া এলাকার মাঠে গেলে চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। এ বছর নিজের ২৪ শতক জমিতে চার জাতের লাউ চাষ করে ফলন ভালো পেলেও কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি নেই। ফলন চমৎকার হলেও স্থানীয় বাজারে হঠাৎ দরপতনের কারণে ন্যায্য লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।
ক্ষেতের মালিক কৃষক শ্রী সুধীর চন্দ্র রায় জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ২৪ শতক জমিতে লাউয়ের বীজ রোপণ করেন। বাঁশের চাঙ্গা বা মাচা তৈরি, বীজ ক্রয়, সেচ ও নিবিড় পরিচর্যা বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। কোনো রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর না করে তিনি কেবল নিজ হাতে প্রস্তুত করা জৈব সার ব্যবহার করেছিলেন। পরিমিত সেচ ও যথাযথ পরিচর্যায় প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর পরিমাণে ফলন এসেছে।
গত ১৫ দিন ধরে তিনি ক্ষেত থেকে নিয়মিত লাউ তুলে বাজারে নিচ্ছেন।
প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি করে লাউ সংগ্রহ করছেন তিনি। ইতিমধ্যে মাঠ থেকে উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে তিনি প্রায় ১২ হাজার টাকা ঘরে তুলেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ফলন অব্যাহত থাকলে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
তবে বাম্পার ফলন সত্ত্বেও স্থানীয় আড়তদারদের কাছ থেকে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই কৃষক। সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে সবজি পাঠানোর পরিবহন ও বিপণন সুযোগ না থাকায় নীলফামারীর স্থানীয় আড়তে প্রতিটি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র সাত থেকে আট টাকায়। অথচ এই লাউ রাজধানী ঢাকায় পাঠাতে পারলে প্রতিটি অনায়াসেই ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা যেত।
মাঠের কঠোর পরিশ্রমের মুনাফা হাতছাড়া হওয়া প্রসঙ্গে সুধীর চন্দ্র রায় বলেন, "এত কষ্ট করে সবজি ফলাই, কিন্তু লাভের বড় অংশই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। সরাসরি বড় বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা থাকলে আমাদের মতো কৃষকরা উপকৃত হতো।"
এমন বাজার সংকটের মধ্যেও তিনি মনোবল হারাননি। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি আবাদের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও আধুনিক ও বিষমুক্ত জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন