অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
তেহরানের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে ইরানি নেতাদের হত্যা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ সংক্রান্ত বার্তা দেন। ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার মতো প্রতিনিধি নিশ্চিত করতেই বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প বলেন, "ইরানের নেতাদের হত্যা করা বন্ধ করতে হবে। কারণ, আমাদের বুঝতে হবে, আমরা আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করছি।"
ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে একের পর এক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের নৌ বা বিমান সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতারাও আর নেই। দেশটির সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্ব লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সাফল্যের বয়ান দিতে গিয়েই তিনি এসব মন্তব্য করেন। তবে সমাবেশ থেকে দেওয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন বা সংক্ষেপে জেসিপিওএ নামের ওই বহুপাক্ষিক চুক্তির লক্ষ্য ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপের বিপরীতে আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট চুক্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সমঝোতা ইরানকে নির্বিঘ্নে পারমাণবিক শক্তি অর্জনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিল। ফলে উপযুক্ত সময়ে চুক্তিটি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয় এড়াতে পেরেছে।
ট্রাম্পের দাবি, `অপারেশন মিডনাইট হ্যামার` ও `অপারেশন এপিক ফিউরি`র মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস নিয়ে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক কোনো সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সমাবেশের বক্তৃতায় ওয়াশিংটনের তীব্র সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বিমুখী কৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আবার আলোচনার জন্য উপযুক্ত পক্ষ খোঁজার তাগিদ জানানো হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য আলোচনার আনুষ্ঠানিক কাঠামো, সময়সূচি বা শর্তের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা এখনও উপস্থাপন করেনি হোয়াইট হাউস।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন