রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,
দুদকের মামলার চার্জশিট

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট গ্রহণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট গ্রহণ

সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার্জশিট গ্রহণ করেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম আদালতে চার্জশিট গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটভুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং তাঁর কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ এই চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দায়ের করেন সংস্থার উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তিনিই গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নামে ও বেনামে সর্বমোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এর বিপরীতে তদন্তে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস থেকে পারিবারিক যাবতীয় ব্যয় বাদ দিয়ে নিট গ্রহণযোগ্য বৈধ আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে তাঁর জ্ঞাত আয়ের বৈধ উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সম্পদের বিশদ বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, আনিসুল হকের একক নিজ নামেই রয়েছে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

বাকি ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদ তাঁর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অপর তিন ব্যক্তির নামে অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে রয়েছে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ।

তদন্ত সংস্থা জানায়, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের অংশ হিসেবে বেসরকারি সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে একই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ওই ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার ধারণের তথ্য চার্জশিটে উঠে এসেছে।

আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করেছে দুদক। তদন্তে আনিসুল হক এবং তাঁর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ২৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এসব ব্যাংক হিসাবে সার্বিকভাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে কমিশন।