অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আদালতের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
শুনানিতে তিনি আদালতকে জানান, নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী রোববারই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত অনুসন্ধানের স্বার্থে আরও সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন মাসের সময় বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রায় দেড় দশক আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।
পরবর্তীতে তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। ওই সময়ে বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের `ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং`-এর ডেপুটি ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ওই জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়।
জবানবন্দি প্রকাশের পর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুর রহমানের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এবং বিমানবাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান এবং সাইফুর রহমান উভয়েই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন