অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রায় নয় কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ ক্রয়ের অনলাইন দরপত্র বা ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া দুই দফা হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে। সাইবার সংক্রান্ত এই জটিলতার কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো সাধারণ কারিগরি বিভ্রাট নয়, বরং প্রভাবশালী একটি চক্রের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে দরপত্র হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিত অনিয়ম চালানো হচ্ছে। রোববার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া দফায় দফায় আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের চরম সংকট।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ সংগ্রহের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন জেলা সিভিল সার্জন অনলাইনে প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করেন। কিন্তু দরপত্র উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই ওয়েবসাইট হ্যাক করে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগের দরপত্র বাতিল করতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় পুনরায় ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে দ্বিতীয়বারেও একই কায়দায় অনলাইন প্রক্রিয়াটি হ্যাক করা হয়, যার ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা সিস্টেমে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন।
একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালের ক্রয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সাধারণ ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ ঠেকিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতেই এমন কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত কেনা সামগ্রী দিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হয়েছিল। তবে সেই মজুদ গত জুনেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে সরবরাহ না আসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
গুরুতর এই সাইবার বিপর্যয় ও টেন্ডার হ্যাকের ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ১৫ দিনের ছুটিতে চলে গেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. খলিলুজ্জামান জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়াটি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত থাকলেও কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, সিভিল সার্জন নিজে এই ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং তিনি বর্তমানে ১৫ দিনের ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে ফিরলে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কারণ স্পষ্ট হবে।
হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে চলতি বছরের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামনের দিনগুলোতে ওষুধের ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেন্ডার কার্যক্রম শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন